শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, তালাবদ্ধ মাইলস্টোন এখন শোকে!
অনলাইন ডেস্ক
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে এখন ঝুলছে তালা। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্তব্ধ পড়াশোনার চেনা ছন্দ, নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পদচারণার লেশমাত্র নেই। প্রতিষ্ঠানটির সামনের রাস্তাজুড়ে জমেছে অভিভাবক, কৌতূহলী জনতা ও গণমাধ্যমের ভিড়।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে সেখানে গিয়ে গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা এমন দৃশ্যই প্রত্যক্ষ করেন।
সকালে কিছুটা নিরব থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল নামে। কেউ মোবাইলে ভিডিও করছেন, কেউ ছবিতে বন্দি করছেন মুহূর্তগুলো। ক্যামেরার লেন্স আর মাইক্রোফোন একনাগাড়ে তাক করে আছে তালাবদ্ধ সেই গেটের দিকেই। কখনও ভেতর থেকে কেউ বের হলেই ছুটে যায় সেগুলোর পেছনে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দুদিন আগেও যেখানে শিশুরা হেসে খেলে বেড়াত, সেখানে এখন শোকের ছায়া আর তালা। মনটা চাইছে ভেতরে ঢুকে শুধু একবার চোখ বুলিয়ে আসি।”
কলেজ মাঠের ভেতরে অবস্থান করছেন বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মী। কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। গণমাধ্যমকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে বাইরে থেকেই ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যে, যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা ও পরিচয় শনাক্ত করতে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন—উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার, কো-অর্ডিনেটর লুৎফুন্নেসা লোপা, অভিভাবক প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান মোল্লা (শিক্ষার্থী: যাইমা জাহান, চতুর্থ শ্রেণি), এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ বিন জিয়াউর রহমান ও মো. ভাসনিম ভূঁইয়া প্রতিক। কমিটিকে সরাসরি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলা ও যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই (সোমবার) দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে আছড়ে পড়ে। এতে বহু শিক্ষার্থী হতাহত হন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২-এ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হয় এবং মানবিক কারণে স্থগিত করা হয় এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা।